বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ অপরাহ্ন

নোটিশঃ
দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় সাংবাদিক  নিয়োগসহ পরিচয় পত্র নবায়ণ চলছে।

শাহরাস্তির শোরসাক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই ৪ দোকান

গাজী রিয়াজ হোসেন :
শাহরাস্তি উপজেলার সূচীপাড়া উত্তর ইউপির শোরসাক বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে চারটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে দোকান গুলোতে থাকা মালামালসহ প্রায়  ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস।সোমবার দিবাগত রাত (৩০ জুন) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চিৎকার দিয়ে লোকজনকে জড়ো করেন এবং আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে বড় ধরনের আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডে জাহাঙ্গীর হোসেনের সিএনজি ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশের দোকান, দেলোয়ার হোসেনের ও রহমানের দুটি চায়ের দোকান এবং সাদ্দাম হোসেনের লেপ-তোষকের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, দোকানগুলোতে থাকা মালামালসহ প্রায় ২৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু জাহাঙ্গীর হোসেনের দোকানেই প্রায় ১৫  লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে তিনি জানান।
এছাড়া বাকি ১০ লক্ষ টাকার মালমাল লেপ তোষকের দোকান ও দুটি চা দোকানের আসবাবপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।  শাহরাস্তি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নাসিম রেজা নীলুর নেতৃত্বে পরিচালিত উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন। ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর নাসিম রেজা নীলু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারায় আশপাশের আরও অনেক দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনিরা খাতুন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের সান্ত্বনা দেন এবং ক্ষয়ক্ষতির সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করেন।
ইউএনও মনিরা খাতুন বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ আমরা অনুধাবন করছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এ সময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সোহেল রানা পাপ্পু, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জালাল খোকন, ইউপি বিএনপির সভাপতি আলী আকবর বেপারী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, বাজার কমিটির সভাপতি আলম মোল্লা, যুবদল নেতা সোহাগসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় নেতারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়াতে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

All rights reserved © meghnapost.com